হ্যালো, প্রিয় পাঠকবৃন্দ! আমি আপনাদের পাসপোর্টভিসাব্লগ.কম-এর একজন অভিজ্ঞ ব্লগার। বছরের পর বছর ধরে আমি বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছি এবং পাসপোর্ট-ভিসা সম্পর্কিত অনেক অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করেছি। আজকের এই পোস্টে আমরা আলোচনা করবো ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে বিষয়টি নিয়ে।
যদি আপনি দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাস করছেন এবং বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে নতুন ই-পাসপোর্ট করতে চান, অথবা পুরনো পাসপোর্টকে ই-পাসপোর্টে রূপান্তর করতে চান, তাহলে এই গাইডটি আপনার জন্যই। আমি নিজে কোরিয়ায় থাকাকালীন এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছি, তাই এখানে সবকিছু বাস্তবসম্মত এবং আপডেটেড তথ্য দিয়ে লিখছি।
পাসপোর্ট তো শুধু ভ্রমণের টিকিট নয়, এটা আপনার জাতীয়তা এবং পরিচয়ের প্রমাণ। বাংলাদেশ সরকার ২০২০ সাল থেকে ই-পাসপোর্ট চালু করেছে, যা এখন বিশ্বের ১১৯তম দেশ হিসেবে এই সুবিধা প্রদান করছে।
বিশেষ করে বিদেশে থাকা বাংলাদেশীদের জন্য এটা একটা বড় সুবিধা, কারণ অনলাইনে আবেদন করে দূতাবাসে গিয়ে বায়োমেট্রিক দিতে পারেন। এই পোস্টে আমরা জানব নতুন পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে, ১০ বছর মেয়াদি ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে, বিবাহিতদের পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে, এবং আবেদনের ধাপসমূহ। চলুন শুরু করি!
ই-পাসপোর্ট কি এবং এর সুবিধাসমূহ
ই-পাসপোর্ট বা ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট হলো একটা আধুনিক ডিজিটাল পাসপোর্ট, যাতে চিপ থাকে যা আপনার বায়োমেট্রিক তথ্য (ফিঙ্গারপ্রিন্ট, আইরিস স্ক্যান) সংরক্ষণ করে।
এটা পুরনো ম্যানুয়াল পাসপোর্টের চেয়ে অনেক নিরাপদ এবং দ্রুত ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বাংলাদেশে এটা ২০২০ থেকে চালু, এবং ২০২৬ সালে এখন সব আবেদনই ই-পাসপোর্টের জন্য।
ই-পাসপোর্টের সুবিধাসমূহ
- দীর্ঘমেয়াদী বৈধতা: ৫ বছর বা ১০ বছর মেয়াদি নির্বাচন করতে পারেন।
- উন্নত নিরাপত্তা: চিপের কারণে জালিয়াতি কম হয়।
- দ্রুত ইমিগ্রেশন: অনেক দেশে ই-গেট ব্যবহার করা যায়।
- ডিজিটাল সেবা: অনলাইনে আবেদন এবং স্ট্যাটাস চেক।
- ভ্রমণের সুবিধা: আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
যদি আপনি কোরিয়ায় থাকেন, তাহলে বাংলাদেশ দূতাবাস সিউলে seoul.mofa.gov.bd গিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। আমার অভিজ্ঞতায়, এটা খুব সহজ হয়েছে ২০২৬ সালে।
নতুন ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে (প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য)
যদি আপনি প্রথমবার পাসপোর্ট করছেন বা পুরনোটাকে ই-পাসপোর্টে কনভার্ট করছেন, তাহলে ডকুমেন্টসের লিস্ট একই রকম। বাংলাদেশ সরকারের অফিসিয়াল পোর্টাল অনুসারে, ২০২৬ সালের আপডেটেড তথ্য অনুসারে নিম্নলিখিত ডকুমেন্টস দরকার। আমি নিজে এগুলো সংগ্রহ করে আবেদন করেছি, তাই জানি কোনটা অপরিহার্য।
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসের লিস্ট
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID কার্ড): আসল এবং রঙিন ফটোকপি। যদি NID না থাকে, তাহলে অনলাইন ভেরিফায়েবল ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট (BRC)।
- পিতা-মাতার NID ফটোকপি: রঙিন কপি।
- ইউটিলিটি বিল: বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিলের কপি, যাতে আপনার ঠিকানা প্রমাণ হয়।
- নাগরিকত্ব সনদপত্র: ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা চেয়ারম্যান থেকে প্রাপ্ত।
- অনলাইন আবেদনের প্রিন্ট কপি: আবেদন সারাংশ এবং ফুল ফর্ম।
- পেমেন্ট রসিদ: ব্যাংক ড্রাফট বা অনলাইন পেমেন্টের কপি।
- পুরনো পাসপোর্ট (যদি থাকে): কনভার্শনের জন্য আসল এবং কপি।
- ছবি: সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড)।
যদি আপনি স্টুডেন্ট হন, তাহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড এবং সার্টিফিকেট যোগ করুন। কোরিয়ায় থাকলে, বর্তমান ঠিকানা ‘KOREA, REPUBLIC OF‘ সিলেক্ট করুন অনলাইন ফর্মে।
ডকুমেন্টসের টেবিল

সতর্কতা নোট: ডকুমেন্টসগুলো অবশ্যই আপডেটেড এবং ভেরিফায়েবল হতে হবে। যদি কোনো তথ্য ভুল হয়, আবেদন বাতিল হতে পারে। আমার অভিজ্ঞতায়, NID অনলাইনে চেক করে নিন আগে।
বিবাহিতদের ই-পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে
বিবাহিত হলে অতিরিক্ত কিছু ডকুমেন্ট যোগ হয়, যাতে স্পাউজের তথ্য যোগ করা যায়। এটা ঐচ্ছিক, কিন্তু ভ্রমণের সুবিধার জন্য ভালো।
- নিকাহনামা বা ম্যারেজ সার্টিফিকেট: রঙিন কপি, সরকারি রেজিস্ট্রার থেকে প্রাপ্ত।
- স্পাউজের NID কপি: যদি স্পাউজের নাম যোগ করতে চান।
- স্পাউজের পাসপোর্ট কপি (যদি থাকে): ফটোকপি।
পরামর্শ: যদি নাম সংশোধন করতে চান (যেমন বিবাহের পর সারনেম চেঞ্জ), তাহলে অতিরিক্ত ফর্ম পূরণ করুন। দূতাবাসের ওয়েবসাইট থেকে করেকশন ফর্ম ডাউনলোড করুন।
১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে
১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের ডকুমেন্টস একই, শুধু ফি বেশি হয়। অনলাইন ফর্মে মেয়াদ সিলেক্ট করুন। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য NID এবং ছবি জমা দিন। যদি বয়স ১৮-এর নিচে, তাহলে BRC এবং পিতা-মাতার NID/ছবি।
ফি বিস্তারিত: কোরিয়ায়, ৫ বছর মেয়াদি রেগুলার ফি প্রায় ৪,০২৫ টাকা (বা সমতুল্য KRW/USD), কিন্তু ১০ বছরের জন্য বেশি। দূতাবাসের আপডেটেড ফি চেক করুন seoul.mofa.gov.bd। আমার অভিজ্ঞতায়, ১০ বছরেরটা লং-টার্ম ভ্রমণকারীদের জন্য ভালো।
ই-পাসপোর্ট আবেদনের ধাপসমূহ: স্টেপ-বাই-স্টেপ গাইড
ই-পাসপোর্ট আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইন-ভিত্তিক। আমি নিজে এই ধাপগুলো অনুসরণ করেছি কোরিয়ায় থেকে।
- অনলাইন রেজিস্ট্রেশন: www.epassport.gov.bd সাইটে যান। ‘অনলাইনে আবেদন‘ ক্লিক করুন। নাম, জন্মতারিখ, NID নম্বর, ঠিকানা পূরণ করুন। বর্তমান ঠিকানা ‘KOREA, REPUBLIC OF‘ সিলেক্ট করুন।

- ফি পেমেন্ট: পেমেন্ট অপশন সিলেক্ট করুন। কোরিয়ায়, KEB Hana Bank-এ টাকা জমা দিন (A/C no. 166-890000-59001, A/C name: 주한 방글라데시 대사관)। রসিদ অনলাইন আপলোড করুন।
- অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং: পেমেন্টের পর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন দূতাবাসে। সিউল দূতাবাসে গিয়ে বায়োমেট্রিক দিন (ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ছবি)।
- ডকুমেন্ট যাচাই এবং প্রসেসিং: দূতাবাসে ডকুমেন্টস জমা দিন। প্রসেসিং সময় রেগুলার ১৫ কর্মদিবস, এক্সপ্রেস ৭ দিন, সুপার এক্সপ্রেস ৩ দিন।
- পাসপোর্ট ডেলিভারি: পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পান (৪,০০০ ওনের ডেলিভারি স্টিকার যোগ করুন)। স্ট্যাটাস চেক করুন সাইটে।
টিপস: আবেদনের সময় সব তথ্য ডাবল চেক করুন। যদি পুরনো পাসপোর্ট না থাকে, নতুন হিসেবে আবেদন করুন। দূতাবাসে যাওয়ার আগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট কনফার্ম করুন।
সাহায্যকারী পরামর্শ এবং সতর্কতামূলক নোট
- পরামর্শ: আবেদনের আগে NID অনলাইনে ভেরিফাই করুন। কোরিয়ায় থাকলে দূতাবাসের হেল্পলাইন (+82-2-796-4056) কল করুন।
- সতর্কতা: ফর্মে ভুল তথ্য দিলে রিজেক্ট হতে পারে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট মিস করবেন না। পাসপোর্ট হারালে পুলিশ রিপোর্ট করুন।
- নবজাতকের জন্য: BRC, পিতা-মাতার পাসপোর্ট কপি যোগ করুন। দূতাবাসের স্পেশাল নোটিস চেক করুন।
উপসংহার
প্রিয় পাঠক, ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে এই বিষয়ে আজকের আলোচনা এখানেই শেষ। এটা একটা সহজ প্রক্রিয়া, যদি আপনি ধাপগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করেন। আমার অভিজ্ঞতায়, এটা আপনার ভ্রমণ জীবনকে অনেক সহজ করে দেয়। যদি আরও জানতে চান, আমাদের সাইটে “পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে” বা “ই পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন ফরম” আর্টিকেল পড়ুন। নিরাপদ ভ্রমণ কামনা করি!
আরো পড়ুন: ই-পাসপোর্ট আবেদন ফরম পূরণের নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে।
সাধারণ সমস্যা এবং সমাধান
- সমস্যা: NID ভেরিফাই না হওয়া – সমাধান: ইসি ওয়েবসাইটে আপডেট করুন।
- সমস্যা: পেমেন্ট ইস্যু – সমাধান: ব্যাংকের সঠিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করুন, রসিদ স্ক্যান করে আপলোড।
- সমস্যা: অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পাওয়া – সমাধান: সকালে চেক করুন, অথবা দূতাবাসে কল করুন।
- সমস্যা: ডেলিভারি দেরি – সমাধান: স্ট্যাটাস অনলাইনে চেক করুন, দূতাবাসে যোগাযোগ করুন।
ই পাসপোর্ট আবেদনের ধাপসমূহ কি কি?
অনলাইন রেজিস্ট্রেশন, পেমেন্ট, অ্যাপয়েন্টমেন্ট, বায়োমেট্রিক, ডেলিভারি। বিস্তারিত উপরে দেখুন।
ই পাসপোর্ট আবেদনের সময়সীমা কত?
রেগুলার ১৫ দিন, এক্সপ্রেস ৭ দিন, সুপার এক্সপ্রেস ৩ দিন। abroad-এ সামান্য বেশি লাগতে পারে।
ই পাসপোর্ট এর সুবিধা কি কি?
নিরাপত্তা, দ্রুত ইমিগ্রেশন, ডিজিটাল সেবা।
ই পাসপোর্ট করার সময় পুরনো পাসপোর্ট না থাকলে কি করতে হবে?
নতুন হিসেবে আবেদন করুন, অতিরিক্ত ডকুমেন্টস যোগ করুন।