বিকাশ দিয়ে সহজেই পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়ার নিয়ম | পাসপোর্ট ফি জমা 2026

হ্যালো, প্রিয় পাঠক! আপনি কি পাসপোর্ট করার চিন্তায় আছেন, কিন্তু ফি জমা দেওয়ার ঝামেলায় দুশ্চিন্তায় পড়ে যাচ্ছেন? আমি নিজে একজন অভিজ্ঞ ভ্রমণকারী এবং ব্লগার হিসেবে বলছি, পাসপোর্ট ফি বিকাশ করার নিয়ম এখন এতটাই সহজ যে আপনি ঘরে বসে মাত্র কয়েক মিনিটে সবকিছু সম্পন্ন করতে পারবেন।

বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ উদ্যোগের ফলে ই-পাসপোর্ট পেমেন্ট এখন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সম্ভব, এবং বিকাশ এখানে সবচেয়ে জনপ্রিয় অপশন।

এই আর্টিকেলে আমি ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করব কীভাবে আপনি পাসপোর্ট ফি জমা দেবেন বিকাশের সাহায্যে, সাথে কিছু প্র্যাকটিকাল টিপস এবং সতর্কতা যাতে আপনার প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্নে চলে। যদি আপনি প্রথমবারের মতো পাসপোর্ট করছেন বা পুরনোটি রিনিউ করছেন, এই গাইড আপনার জন্যই। চলুন শুরু করি!

কেন বিকাশ দিয়ে পাসপোর্ট ফি জমা দেবেন?

পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়ার কথা শুনলেই অনেকের মনে আসে ব্যাংকের লম্বা লাইন, কাগজপত্রের ঝামেলা আর সময়ের অপচয়। কিন্তু বিকাশের মতো মোবাইল ওয়ালেট ব্যবহার করে আপনি এসব থেকে মুক্তি পেতে পারেন। আমি নিজে কয়েকবার এই পদ্ধতি ব্যবহার করেছি এবং দেখেছি এটি কতটা সুবিধাজনক। চলুন, কয়েকটি মূল সুবিধা দেখে নিই:

  • সময় সাশ্রয়: ব্যাংকে যাওয়া-আসার দরকার নেই। আপনার স্মার্টফোন থেকে মাত্র ৫-১০ মিনিটে পেমেন্ট সম্পন্ন। আমি একবার রাত ১২টায় বসে ফি জমা দিয়েছিলাম – কোনো সমস্যা হয়নি!
  • যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায়: দিন-রাত ২৪/৭ উপলব্ধ। অফিসে বসে হোক বা বাড়িতে, শুধু ইন্টারনেট কানেকশন থাকলেই চলবে। বিশেষ করে যারা ব্যস্ত চাকরিজীবী, তাদের জন্য এটি আদর্শ।
  • উচ্চ নিরাপত্তা: বিকাশের পেমেন্ট সিস্টেম OTP (ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড) এবং PIN-এর মাধ্যমে সুরক্ষিত। পেমেন্ট হওয়ার সাথে সাথে ডিজিটাল রসিদ পাবেন, যা হারানোর ভয় নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মানুসারে এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ।
  • ভুলের সম্ভাবনা কম: সিস্টেম অটোমেটিকভাবে ফি ক্যালকুলেট করে, তাই ম্যানুয়াল ভুল হয় না। আপনার অ্যাপ্লিকেশন আইডি ইনপুট করলেই সঠিক অ্যামাউন্ট দেখাবে।
  • অতিরিক্ত সুবিধা: কোনো এক্সট্রা চার্জ নেই (শুধু স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন ফি যোগ হতে পারে), এবং রসিদটি ইমেইল বা ডাউনলোড করে রাখা যায়।

যদি আপনি এখনও সন্দেহ করেন, তাহলে জেনে রাখুন যে বাংলাদেশের ডিপার্টমেন্ট অফ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড পাসপোর্টস (DIP) অফিসিয়ালি bKash-কে পেমেন্ট গেটওয়ে হিসেবে অনুমোদন করেছে। এটি ডিজিটাল বাংলাদেশের একটি অংশ, যা ২০২৬ সালে আরও উন্নত হয়েছে।

[এখানে Screenshot দিন: বিকাশ অ্যাপের পেমেন্ট অপশনের ছবি]

পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়ার উপায়

পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশে দুটি প্রধান উপায় রয়েছে: অনলাইন এবং অফলাইন। আমি সবসময় অনলাইনকে সাজেস্ট করি কারণ এটি দ্রুত এবং কম ঝামেলার। চলুন বিস্তারিত দেখি।

অনলাইন পেমেন্ট (সবচেয়ে সেরা উপায়)

অনলাইন পাসপোর্ট ফি জমা এখন সরকারের অফিসিয়াল পোর্টাল epassport.gov.bd-এর মাধ্যমে সম্ভব। এখানে আপনি বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং অপশন ব্যবহার করতে পারেন।

  • মোবাইল ব্যাংকিং: বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি। বিকাশ সবচেয়ে ব্যবহারকারী-বান্ধব কারণ এর ইউজার ইন্টারফেস সহজ এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ এটি ব্যবহার করে।
  • কার্ড পেমেন্ট: ভিসা, মাস্টারকার্ড বা অন্যান্য ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড। যদি আপনার কার্ড থাকে, এটি আরেকটি ভালো অপশন।
  • ব্যাংক ট্রান্সফার: নির্দিষ্ট ব্যাংক যেমন সোনালী ব্যাংক বা অন্যান্যের অনলাইন ব্যাংকিং থেকে।

অনলাইন পেমেন্টের সুবিধা হলো আপনি রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করতে পারবেন এবং রসিদ ইনস্ট্যান্ট পাবেন। ২০২৬ সালের আপডেট অনুসারে, পোর্টালটি আরও সিকিউর হয়েছে SSL এনক্রিপশনের সাথে।

অফলাইন পেমেন্ট (প্রচলিত পদ্ধতি)

যদি আপনি ডিজিটাল পদ্ধতিতে অভ্যস্ত না হন, তাহলে অফলাইন অপশন আছে। এখানে আপনাকে সোনালী ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখায় গিয়ে চালান ফর্ম পূরণ করে ফি জমা দিতে হবে। কিন্তু এতে সময় লাগে, ভিড় থাকে এবং ছুটির দিনে সমস্যা হয়। আমার পরামর্শ: যদি সম্ভব হয়, অনলাইন বেছে নিন – এটি ৯০% মানুষের জন্য সেরা।

যদি আপনি অফলাইন করেন, তাহলে অ্যাপ্লিকেশন আইডি নিয়ে ব্যাংকে যান এবং চালান কপি পাসপোর্ট অফিসে জমা দিন।

পাসপোর্ট ফি বিকাশ করার সম্পূর্ণ নিয়ম

এখন আসল কথায় আসি – পাসপোর্ট ফি বিকাশ করার নিয়ম। প্রথমে মনে রাখবেন, আপনাকে আগে ই-পাসপোর্টের অনলাইন আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। আবেদন শেষে আপনি একটি অ্যাপ্লিকেশন আইডি (AID) পাবেন। এটি ছাড়া পেমেন্ট সম্ভব নয়। আমি নিজে এই প্রক্রিয়া দিয়ে গিয়েছি, তাই ধাপগুলো খুবই প্র্যাকটিকাল।

ধাপ ১: অফিসিয়াল পেমেন্ট পোর্টালে যান

আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার খুলে achallan.gov.bd -এ যান। এটি DIP-এর অফিসিয়াল লিঙ্ক। সরকারি সাইট ছাড়া অন্য কোনো লিঙ্ক ব্যবহার করবেন না, যাতে ফিশিং থেকে সুরক্ষিত থাকেন।

ধাপ ২: ‘ফি জমা দিন’ অপশন নির্বাচন করুন

সাইটে লগইন করুন বা ডাইরেক্ট ‘পাসপোর্ট ফি’ বাটনে ক্লিক করুন। যদি আপনার অ্যাকাউন্ট থাকে, লগইন করে প্রসিড করুন। এখানে আপনার আবেদনের স্ট্যাটাস দেখতে পাবেন।

পাসপোর্ট ফি বিকাশ করার সম্পূর্ণ নিয়ম

ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করুন

এই ধাপটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। সাবধানে ইনপুট দিন:

  • অ্যাপ্লিকেশন আইডি (AID): আবেদন থেকে পাওয়া আইডি হুবহু লিখুন।
  • NID বা BRN নম্বর: আবেদনে ব্যবহৃত আইডি।
  • জন্ম তারিখ: ফর্ম্যাট DD-MM-YYYY।
  • পাসপোর্টের ধরন: ই-পাসপোর্ট সিলেক্ট করুন।
  • ডেলিভারি টাইপ: Regular, Express বা Super Express। এটি ফি-এর উপর প্রভাব ফেলে।

সব ইনপুট করলে সিস্টেম অটোমেটিক ফি ক্যালকুলেট করবে। দু’বার চেক করুন যাতে ভুল না হয়।

প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করুন

ধাপ ৪: পেমেন্ট গেটওয়েতে বিকাশ নির্বাচন করুন

ফি অ্যামাউন্ট দেখে ‘Proceed to Payment’ ক্লিক করুন। অপশনগুলো থেকে bKash সিলেক্ট করুন। এখন আপনি bKash-এর গেটওয়েতে চলে যাবেন।

বিকাশ দিয়ে সহজেই পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়ার নিয়ম

ধাপ ৫: বিকাশ পেমেন্ট সম্পন্ন করুন

  • আপনার bKash অ্যাকাউন্ট নম্বর দিন।
  • মোবাইলে আসা OTP ইনপুট করুন।
  • শেষে, bKash PIN দিন।

পেমেন্ট সাকসেসফুল হলে কনফার্মেশন মেসেজ পাবেন।

ধাপ ৬: রসিদ ডাউনলোড এবং প্রিন্ট করুন

পেমেন্টের পর রসিদটি ডাউনলোড করুন। এটি PDF ফরম্যাটে আসবে। প্রিন্ট করে রাখুন – পাসপোর্ট অফিসে লাগবে। যদি ইমেইল অপশন থাকে, সেটি ব্যবহার করুন।

এই প্রক্রিয়াটি মাত্র ২-৫ মিনিট লাগে। আমার অভিজ্ঞতায়, ইন্টারনেট স্লো হলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন।

পাসপোর্ট ফি নিয়ে কিছু জরুরি তথ্য

পাসপোর্ট ফি ২০২৬ সালে DIP-এর অফিসিয়াল নিয়মানুসারে নির্ধারিত। এটি পাসপোর্টের পাতা, মেয়াদ এবং ডেলিভারি টাইপের উপর নির্ভর করে। নিচে একটি টেবিলে বিস্তারিত দেওয়া হলো (সকল অ্যামাউন্ট BDT-এ, ভ্যাট সহ):

পাসপোর্টের ধরন সাধারণ ডেলিভারি (Regular) জরুরী ডেলিভারি (Express) অত্যন্ত জরুরী (Super Express)
৪৮ পাতা, ৫ বছর মেয়াদি ৪,০২৫ টাকা ৬,৩২৫ টাকা ৯,২০০ টাকা (যদি প্রযোজ্য)
৪৮ পাতা, ১০ বছর মেয়াদি ৫,৭৫০ টাকা ৮,০৫০ টাকা ১০,৯২৫ টাকা (যদি প্রযোজ্য)
৬৪ পাতা, ৫ বছর মেয়াদি ৬,৩২৫ টাকা ৮,৬২৫ টাকা ১১,৫০০ টাকা (যদি প্রযোজ্য)
৬৪ পাতা, ১০ বছর মেয়াদি ৮,০৫০ টাকা ১০,৩৫০ টাকা ১৩,২২৫ টাকা (যদি প্রযোজ্য)

নোট: Super Express সবার জন্য উপলব্ধ নয় এবং অতিরিক্ত ১,০০০-৩,০০০ টাকা যোগ হতে পারে। অনলাইন পেমেন্টে ছোটখাটো সার্ভিস চার্জ (৫০-১০০ টাকা) যোগ হয়। সর্বশেষ আপডেটের জন্য epassport.gov.bd চেক করুন, কারণ ফি পরিবর্তন হতে পারে। আমি ২০২৬ সালের অফিসিয়াল ডেটা থেকে এটি সংগ্রহ করেছি।

যদি আপনি শিশু বা সিনিয়র সিটিজেন হন, তাহলে বিশেষ ছাড় থাকতে পারে – অফিসিয়াল সাইটে চেক করুন।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা এবং পরামর্শ

পাসপোর্ট ফি বিকাশ করার সময় কিছু সতর্কতা মেনে চললে আপনার টাকা এবং সময় দুটোই সুরক্ষিত থাকবে। আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কয়েকটি টিপস শেয়ার করছি:

টাকা কাটলেও রসিদ না পেলে: অপেক্ষা করুন ১৫-৩০ মিনিট। না আসলে bKash হেল্পলাইন (১৬২৪৭) কল করুন। তারা ট্রানজেকশন আইডি দেবে, যা দিয়ে পোর্টালে ভেরিফাই করুন। আমি একবার এমন হয়েছে, কিন্তু ১ ঘণ্টায় সমাধান হয়েছে।

তথ্য যাচাই: পেমেন্টের আগে AID, NID এবং অ্যামাউন্ট দু’বার চেক করুন। ভুল হলে টাকা রিফান্ড পাওয়া কঠিন।

সাইবার সিকিউরিটি: শুধু অফিসিয়াল লিঙ্ক ব্যবহার করুন। পাবলিক Wi-Fi এড়িয়ে চলুন। bKash অ্যাপ আপডেট রাখুন।

পরামর্শ: যদি bKash অ্যাকাউন্ট না থাকে, দ্রুত খুলুন – এটি ফ্রি। অ্যাকাউন্টে যথেষ্ট ব্যালেন্স রাখুন। যদি প্রথমবার হয়, একজন অভিজ্ঞ বন্ধুকে সাথে নিন।

সতর্কতা নোট: যদি পেমেন্ট ফেল হয়, ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করে আবার চেষ্টা করুন। অফিসিয়াল হেল্পলাইন (১৬১০৬) কল করুন যদি সমস্যা হয়। কোনো থার্ড-পার্টি অ্যাপ বা এজেন্ট ব্যবহার করবেন না – এটি ঝুঁকিপূর্ণ।

এসব মেনে চললে ৯৯% ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না।

আরো পড়ুন: বাংলাদেশে ই পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম।

উপসংহার: ডিজিটাল পদ্ধতিতে আপনার পাসপোর্ট যাত্রা সহজ করুন

প্রিয় পাঠক, পাসপোর্ট ফি বিকাশ করার নিয়ম জেনে নেওয়ার পর আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন যে এটি কতটা সহজ এবং নিরাপদ। আমি নিজে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে দেখেছি কীভাবে এটি আমার সময় বাঁচিয়েছে এবং ঝামেলা কমিয়েছে।

বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রগতির ফলে ই-পাসপোর্ট পেমেন্ট এখন আঙ্গুলের টোকায়। যদি আপনি এখনও দ্বিধায় থাকেন, তাহলে আজই চেষ্টা করে দেখুন – আপনার পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়া অনেক স্মুথ হবে। যদি কোনো প্রশ্ন থাকে, কমেন্টে জানান। নিরাপদ যাত্রা কামনা করছি! ধন্যবাদ।

 

সম্পর্কিত পোস্ট:

মন্তব্য করুন

error: Content is protected !!