বাংলাদেশে ই পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম ২০২৬

আপনি কি আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার চিন্তায় পড়েছেন? বা হয়তো বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, কিন্তু পুরনো পাসপোর্ট নিয়ে চিন্তিত? চিন্তা করবেন না! আজকের এই ব্লগ পোস্টে আমরা বাংলাদেশের ই পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম ২০২৬ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

এখন সবকিছু অনলাইনে হয়ে যাচ্ছে, তাই পাসপোর্ট রিনিউও অনেক সহজ হয়েছে। এই পোস্টটি পড়লে আপনি নিজেই ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পারবেন, দালালের খপ্পরে পড়তে হবে না। চলুন শুরু করি!

ই পাসপোর্ট রিনিউ করার গুরুত্ব

ই পাসপোর্ট হলো আপনার আন্তর্জাতিক পরিচয়পত্র, যা ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ অসম্ভব। যদি আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তাহলে আপনি কোনো দেশে প্রবেশ করতে পারবেন না। অনেক দেশে ভিসা আবেদনের জন্য পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হয়।

তাই মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই রিনিউ করা উচিত। বিশেষ করে প্রবাসীদের জন্য এটি আরও জরুরি, কারণ কর্মস্থলের ভিসা বা রেসিডেন্সি পারমিট নির্ভর করে এর ওপর। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ সরকার ই পাসপোর্টকে আরও নিরাপদ ও আধুনিক করেছে, যা আপনার ভ্রমণকে সহজ করে তোলে।

ই পাসপোর্ট রিনিউ করার পূর্বে যা করণীয়

পাসপোর্ট রিনিউ শুরু করার আগে কিছু প্রস্তুতি নেওয়া দরকার। প্রথমে চেক করুন, আপনার পুরনো পাসপোর্ট কোন আঞ্চলিক অফিস থেকে ইস্যু হয়েছে। রিনিউয়ের জন্য সেই একই অফিসে কাগজপত্র জমা দিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি ঢাকা থেকে নেওয়া হয়, তাহলে ঢাকা বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে যাবেন।

দ্বিতীয়ত, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টগুলো সংগ্রহ করুন। এতে জাতীয় পরিচয়পত্র, পুরনো পাসপোর্টের কপি ইত্যাদি লাগবে। পাসপোর্ট রিনিউ ফি সম্পর্কে জানুন – এটি অনলাইনে বা ব্যাংকে পরিশোধ করা যায়। শেষে, epassport.gov.bd সাইটে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। যদি পুরনো অ্যাকাউন্ট থাকে, লগইন করুন। এসব প্রস্তুতি নিলে প্রক্রিয়া সহজ হবে।

ই পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম

২০২৬ সালে পাসপোর্ট রিনিউ শুধুমাত্র অনলাইনে হয়। অফলাইন আবেদন আর নেই। www.epassport.gov.bd সাইটে গিয়ে ‘Apply for New Passport‘ অপশনে ক্লিক করুন। উল্লেখ করুন যে আপনার পুরনো MRP বা ই পাসপোর্ট আছে এবং মেয়াদ শেষ হয়েছে। তারপর ধাপে ধাপে ফর্ম পূরণ করুন, যেমন নতুন পাসপোর্টের মতো।

 

বাংলাদেশের সব জেলায় এখন ই পাসপোর্ট সুবিধা চালু। যদি আপনার পুরনো MRP পাসপোর্ট থাকে, রিনিউয়ের পর ই পাসপোর্ট পাবেন। ফর্ম পূরণে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য মিলিয়ে দিন। পুরনো পাসপোর্ট নম্বর দিলে অনেক তথ্য অটোমেটিক আসবে। যদি তথ্য সংশোধন লাগে, আলাদা আবেদন করুন। সরকারের সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন পাসপোর্টে ‘Spouse Name‘ এর জায়গায় ‘Legal Guardian’s Name‘ থাকবে এবং কোনো QR কোড নেই।

প্রবাসীদের ই পাসপোর্ট রিনিউ পদ্ধতি

প্রবাসে থাকলে বাংলাদেশি দূতাবাসে যান। অনলাইন আবেদন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন। সাথে পুরনো পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধনের কপি নিন। যদি তথ্য পরিবর্তন লাগে, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দিন। মনে রাখবেন, পাসপোর্ট পরিবর্তন হলে আপনার প্রবাসী ভিসা বা রেসিডেন্সি কার্ডও সংশোধন করুন। ফি মানি অর্ডার বা চেক দিয়ে পরিশোধ করুন।

অনলাইন আবেদনে ‘Are You Applying from Bangladesh?‘ অপশনে ‘No’ সিলেক্ট করুন এবং আপনার দেশ চয়ন করুন। তারপর ইমেইল, পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।

ই পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম

অনলাইনে ই পাসপোর্ট রিনিউ আবেদন করার নিয়ম

অনলাইন প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে:

  • epassport.gov.bd সাইটে যান এবং ‘Apply for New Passport’ ক্লিক করুন।
  • ‘Are You Applying from Bangladesh?’ – দেশে থাকলে ‘Yes’, প্রবাসে ‘No’।
  • অ্যাকাউন্ট তৈরি বা লগইন করুন।
  • Passport Type, Personal Details, Address দিন।
  • ID Documents অপশনে পুরনো পাসপোর্টের তথ্য দিন।

  • MRP হলে ‘Yes, I have MRP’, ই পাসপোর্ট হলে ‘Yes, I have ePP’।

  • Reason for request: ‘Expired’ সিলেক্ট করুন যদি মেয়াদ শেষ হয়।

  • পুরনো পাসপোর্ট নম্বর, ইস্যু ও এক্সপায়ারি ডেট দিন।
  • পেজ সংখ্যা (৪৮/৬৪), মেয়াদ (৫/১০ বছর) চয়ন করুন।
  • আবেদন আইডি সেভ করুন এবং প্রিন্ট নিন।
  • কাগজপত্র সাথে নিয়ে অফিসে জমা দিন।

ই পাসপোর্ট রিনিউ করতে কি কি লাগে?

পাসপোর্ট রিনিউয়ের জন্য নিম্নলিখিত ডকুমেন্ট লাগবে:

  • অনলাইন আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি।
  • ফি পরিশোধের রশিদ।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের কপি।
  • পুরনো পাসপোর্টের অরিজিনাল ও ফটোকপি।
  • সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য GO/NOC।
  • রেজিস্ট্রেশন ফর্ম বা সামারি পেজ।

এসব ছাড়া আবেদন অসম্পূর্ণ হবে।

ই পাসপোর্ট রিনিউ করতে কত টাকা লাগে?

২০২৬ সালে ফি নতুন পাসপোর্টের মতোই।

  • ৫ বছর মেয়াদী, ৪৮ পেজ: ৪,০২৫ টাকা (রেগুলার)।
  • ৫ বছর মেয়াদী, ৬৪ পেজ: ৬,৩২৫ টাকা।
  • ১০ বছর মেয়াদী, ৪৮ পেজ: ৫,৭৫০ টাকা।
  • ১০ বছর মেয়াদী, ৬৪ পেজ: ৮,০৫০ টাকা।

প্রবাসীদের জন্য ফি দেশভিত্তিক ভিন্ন হতে পারে, যেমন USA-তে USD ১৩৭.৫ থেকে শুরু। ফি অনলাইনে ekpay দিয়ে বা ব্যাংকে চালান/ড্রাফট দিয়ে পরিশোধ করুন।

ই পাসপোর্ট রিনিউ হতে কত সময় লাগে?

রিনিউ প্রক্রিয়া নতুন পাসপোর্টের চেয়ে দ্রুত, কারণ সাধারণত পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে না (ক্ষেত্রবিশেষে লাগতে পারে)। রেগুলার ডেলিভারিতে ১৫-২১ দিন লাগে। এক্সপ্রেসে আরও কম। এটি ফি-এর ওপর নির্ভর করে। অফিসিয়াল সাইটে স্ট্যাটাস চেক করুন।

ই পাসপোর্ট রিনিউ করার ক্ষেত্রে যে ভুলগুলো মানুষ বেশি করে

অনেকে কিছু সাধারণ ভুল করে, যা আবেদন বাতিল করে দেয়:

  • ভুল তথ্য দেওয়া: জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে মিল না হলে সমস্যা।
  • অসম্পূর্ণ ডকুমেন্ট: সব কাগজ না নেওয়া।
  • অনলাইন প্রক্রিয়া না জানা: ভুল ফর্ম পূরণ।
  • দালালকে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া: এটি অপরাধ।
  • ফি পরিশোধে ভুল: সঠিক পরিমাণ না দেওয়া।

এসব এড়াতে সতর্ক থাকুন এবং অফিসিয়াল সাইট থেকে গাইডলাইন ফলো করুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন সমূহ (FAQ)

ই পাসপোর্ট কয়বার রিনিউ করা যাবে?

কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। মেয়াদ শেষ হলে যতবার খুশি রিনিউ করুন।

বাচ্চাদের ই পাসপোর্ট রিনিউ কীভাবে করব?

১৯ বছরের নিচে হলে জন্ম নিবন্ধন দিয়ে একই নিয়ম। ১৯-এর ওপরে হলে জাতীয় পরিচয়পত্র লাগবে।

ই পাসপোর্ট রিনিউয়ে পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে?

সাধারণত না, কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে লাগতে পারে।

আরো পড়ুন: ই-পাসপোর্ট আবেদন ফরম পূরণের নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

এই পোস্টটি পড়ে আপনার পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম ২০২৬ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা হয়েছে বলে আশা করি। মনে রাখবেন, সঠিক সময়ে রিনিউ করলে ভ্রমণের ঝামেলা এড়ানো যায়। যদি কোনো প্রশ্ন থাকে, কমেন্ট করুন। নিরাপদ ভ্রমণ শুভকামনা!

 

সম্পর্কিত পোস্ট:

“বাংলাদেশে ই পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম ২০২৬”-এ 3-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

error: Content is protected !!