বাংলাদেশে নবজাত শিশুর ই পাসপোর্ট করার নিয়ম এবং কি কি ডকুমেন্টস লাগে?

হ্যালো, প্রিয় পাঠক! আপনি যদি একজন নতুন অভিভাবক হন এবং আপনার ছোট্ট সোনামণির জন্য ই-পাসপোর্ট তৈরি করার চিন্তা করছেন, তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। বাংলাদেশে নবজাত শিশুর ই পাসপোর্ট করার নিয়ম এখন অনেক সহজ এবং দ্রুত প্রক্রিয়া হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে ২০২০ সাল থেকে ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ার পর।

আমি নিজে একজন অভিজ্ঞ ব্লগার এবং ভ্রমণ উত্সাহী হিসেবে অনেক অভিভাবকের সাথে কথা বলে জেনেছি যে, এই প্রক্রিয়াটি শুরুতে একটু জটিল মনে হলেও, সঠিক নিয়ম জানলে খুব সহজেই সম্পন্ন করা যায়। আজকের এই পোস্টে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব নবজাত শিশুর ই পাসপোর্ট করার নিয়ম, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস, ফি, মেয়াদ এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস।

এই তথ্যগুলো আমি বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড পাসপোর্ট বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ভেরিফাই করে নিয়েছি, যাতে আপনারা ২০২৫ সালের আপডেট অনুসারে সঠিক গাইডলাইন পান। চলুন শুরু করি!

নবজাত শিশুর ই পাসপোর্টের সুবিধাসমূহ

প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক, কেন আপনার নবজাতকের জন্য ই-পাসপোর্ট তৈরি করা উচিত। বাংলাদেশ ২০২০ সালে বিশ্বের ১১৯তম দেশ হিসেবে ই-পাসপোর্ট চালু করে, যা এখন সব বয়সের নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত। এই ই-পাসপোর্টে চিপ-ভিত্তিক প্রযুক্তি রয়েছে, যা নিরাপত্তা বাড়ায় এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণকে সহজ করে।

  • উন্নত নিরাপত্তা: আপনার শিশুর তথ্য ডিজিটালি সুরক্ষিত থাকে, যা জালিয়াতি রোধ করে।
  • দ্রুত ইমিগ্রেশন: বিদেশী বিমানবন্দরে লাইন কম লাগে, কারণ অটোমেটেড গেটস ব্যবহার করা যায়।
  • ডেটা ম্যানেজমেন্ট: ভবিষ্যতে ভিসা বা অন্যান্য কাজে সহজে ব্যবহার করা যায়।
  • আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা: বিশ্বের প্রায় সব দেশে (কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া) এটি বৈধ।

আমার অভিজ্ঞতায়, অনেক অভিভাবক শিশুর পাসপোর্ট তৈরি করে পরিবারের সাথে বিদেশ ভ্রমণ সহজ করে তোলেন। তবে মনে রাখবেন, নবজাতকের জন্য পাসপোর্ট অপশনাল নয়—যদি আপনি ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তাহলে এটি আবশ্যক।

নবজাত শিশুর ই পাসপোর্ট করার নিয়ম

বাংলাদেশে শিশুর পাসপোর্ট করার প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজড, যা আপনি নিজের স্মার্টফোন বা কম্পিউটার থেকে শুরু করতে পারেন। ১৮ বছরের নিচের শিশুদের জন্য নিয়ম কিছুটা ভিন্ন, বিশেষ করে নবজাতকদের (০-৬ বছর) ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক্সের প্রয়োজন নেই। চলুন স্টেপ-বাই-স্টেপ দেখি।

ধাপ ১: অনলাইন আবেদন ফর্ম পূরণ

  • প্রথমে www.epassport.gov.bd সাইটে যান এবং “New e-Passport” অপশন সিলেক্ট করুন।
  • শিশুর জন্ম তারিখ, নাম, পিতা-মাতার তথ্য ইত্যাদি নির্ভুলভাবে লিখুন। মনে রাখবেন, ভুল তথ্যের কারণে আবেদন বাতিল হতে পারে।
  • শিশুর বয়স ৬ বছরের কম হলে, বিশেষ নোট দিন যে বায়োমেট্রিক্স লাগবে না।
  • সতর্কতা: সাইটে রেজিস্ট্রেশন করার সময় স্ট্রং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং ইমেইল/মোবাইল ভেরিফাই করুন। আমার অভিজ্ঞতায়, এই ধাপে সময় নেওয়া ভালো, কারণ পরে সংশোধন করা কঠিন।

নবজাত শিশুর ই পাসপোর্ট করার নিয়ম

ধাপ ২: ডকুমেন্ট আপলোড এবং সাবমিশন

  • প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস (নিচে বিস্তারিত) স্ক্যান করে আপলোড করুন।
  • সবকিছু চেক করে “Submit” ক্লিক করুন। এরপর একটি অ্যাপ্লিকেশন সামারি পাবেন, যা প্রিন্ট করে নিন।
  • পরামর্শ: ডকুমেন্টস PDF ফরম্যাটে আপলোড করুন এবং সাইজ ৫ এমবি-র নিচে রাখুন। যদি ইন্টারনেট স্লো হয়, তাহলে Wi-Fi ব্যবহার করুন।

ধাপ ৩: ফি প্রদান

  • আবেদন সাবমিটের পর ফি পেমেন্ট অপশন আসবে। ২০২৫ সালের আপডেট অনুসারে, নবজাত শিশুর (৫ বছর মেয়াদ, ৪৮ পেজ) ফি:
ক্যাটাগরি ফি (টাকা) প্রসেসিং টাইম
রেগুলার ৩,৫০০-৪,০০০ (প্রায়) ১৫-২১ কার্যদিবস
এক্সপ্রেস ৫,০০০-৬,০০০ ৭-১০ কার্যদিবস
সুপার এক্সপ্রেস ৭,০০০-৮,০০০ ২-৩ কার্যদিবস
  • ফি অনলাইনে (bKash, Nagad, ব্যাংক) বা চালানের মাধ্যমে দিন। রশিদ প্রিন্ট করে রাখুন।

সতর্কতা: শিশুদের ফি বড়দের থেকে কম, কিন্তু ভ্যাট যোগ হতে পারে। অফিসিয়াল সাইট থেকে চেক করুন, কারণ ফি পরিবর্তন হতে পারে।

ধাপ ৪: অফিস ভিজিট, ছবি তোলা এবং ডকুমেন্ট যাচাই

  • অ্যাপয়েন্টমেন্ট ডেটে নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে যান। নবজাতকের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার উপস্থিতি আবশ্যক, কিন্তু বায়োমেট্রিক্স (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) লাগে না।
  • অফিসে শিশুর ছবি তোলা হবে, তবে ৬ বছরের কমদের জন্য হোয়াইট ব্যাকগ্রাউন্ডের ৩৫x৪৫ মিমি সাইজের ২ কপি ছবি নিয়ে যান।
  • ডকুমেন্ট যাচাইয়ের পর রেফারেন্স নম্বর পাবেন।

পরামর্শ: সকালে যান এবং শিশুর সাথে খাবার/পানি নিন। কোভিড-১৯ নিয়ম মেনে মাস্ক পরুন।

ধাপ ৫: পাসপোর্ট সংগ্রহ

  • প্রসেসিং শেষ হলে SMS/ইমেইলে নোটিফিকেশন আসবে।
  • অফিস থেকে সংগ্রহ করুন অথবা ডেলিভারি অপশন চয়ন করুন (অতিরিক্ত ফি লাগতে পারে)।
  • সতর্কতা: পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর তথ্য চেক করুন। ভুল থাকলে তাৎক্ষণিক সংশোধন করান।

এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত ৭-২১ দিন লাগে, কিন্তু ২০২৫ সালে ডিজিটালাইজেশনের কারণে এটি আরও দ্রুত হয়েছে।

নবজাত শিশুর পাসপোর্ট করতে কি কি ডকুমেন্টস লাগে? (১৮ বছরের নিচে)

২০২৫ সালের নিয়ম অনুসারে, নবজাতক (০-৬ বছর) এবং ৬-১৮ বছরের শিশুদের ডকুমেন্টসে সামান্য তারতম্য আছে। সব ডকুমেন্টস অরিজিনাল এবং ফটোকপি নিয়ে যান।

নবজাত শিশুর পাসপোর্ট করতে কি কি ডকুমেন্টস লাগে

  • অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ (BRC): অনলাইনে রেজিস্টার্ড হতে হবে। হাতে লেখা সনদ গ্রহণযোগ্য নয়। ভেরিফাই করুন: www.bdris.gov.bd থেকে।
  • পিতা-মাতার NID কার্ডের ফটোকপি: স্মার্ট NID-এর অরিজিনাল এবং কপি। ৬-১৮ বছরের জন্য আবশ্যক।
  • শিশুর ছবি: ২ কপি হোয়াইট ব্যাকগ্রাউন্ডের (৩৫x৪৫ মিমি)। নবজাতকের জন্য ল্যাব প্রিন্টেড।
  • ফি প্রদানের রশিদ: অনলাইন চালান থেকে ডাউনলোড করুন থেকে।
  • অন্যান্য (যদি লাগে): অ্যাডপশন অর্ডার (যদি অ্যাডপ্টেড হয়) অথবা গার্ডিয়ানশিপ ডকুমেন্ট।

টেবিল ফরম্যাটে ডকুমেন্টস লিস্ট:

ক্যাটাগরি ফি (টাকা) প্রসেসিং টাইম
রেগুলার ৩,৫০০-৪,০০০ (প্রায়) ১৫-২১ কার্যদিবস
এক্সপ্রেস ৫,০০০-৬,০০০ ৭-১০ কার্যদিবস
সুপার এক্সপ্রেস ৭,০০০-৮,০০০ ২-৩ কার্যদিবস

সতর্কতা নোট: সব ডকুমেন্টস ভেরিফাইড হতে হবে। যদি জন্ম সনদ অনলাইনে না থাকে, প্রথমে রেজিস্টার করান (যুনিয়ন/পৌরসভা অফিসে)। ভুল ডকুমেন্ট জমা দিলে আবেদন রিজেক্ট হতে পারে।

নবজাত শিশুর ই পাসপোর্টের মেয়াদ এবং নবায়ন প্রক্রিয়া

নবজাত শিশুদের ই-পাসপোর্টের মেয়াদ সাধারণত ৫ বছর। ১৮ বছরের পর ১০ বছরের হয়। মেয়াদ শেষ হলে নবায়ন করতে হবে, যা নতুন আবেদনের মতোই।

  • নবায়ন ধাপ: একই অনলাইন প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন, পুরনো পাসপোর্টের কপি যোগ করুন।
  • ফি: নতুনের মতোই, কিন্তু কম হতে পারে।
  • পরামর্শ: মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬ মাস আগে নবায়ন শুরু করুন, যাতে ভ্রমণে সমস্যা না হয়।

আমার অভিজ্ঞতায়, নবায়ন দ্রুত হয় কারণ ডেটা ইতিমধ্যে সিস্টেমে থাকে।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

  • নবজাত শিশুর পাসপোর্ট ফি কি বড়দের থেকে কম? হ্যাঁ, প্রায় ২০-৩০% কম।
  • বায়োমেট্রিক্স লাগে কি? ৬ বছরের নিচে না, কিন্তু ছবি লাগে।
  • ই-পাসপোর্ট কোথায় ব্যবহার করা যায়? আন্তর্জাতিকভাবে সব দেশে (কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া)।
  • জন্ম সনদ না থাকলে কি করব? প্রথমে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করান।

যদি আরও প্রশ্ন থাকে, কমেন্ট করুন!

উপসংহার

প্রিয় পাঠক, নবজাত শিশুর ই পাসপোর্ট করার নিয়ম এবং ডকুমেন্টস সম্পর্কে এই বিস্তারিত গাইড আশা করি আপনাদের সাহায্য করবে। বাংলাদেশের ডিজিটাল প্রগতির সাথে এই প্রক্রিয়া এখন অনেক সহজ, কিন্তু সঠিক তথ্য ছাড়া সমস্যা হতে পারে।

আমি সরকারি সাইট থেকে ভেরিফাই করে এই পোস্ট লিখেছি, যাতে আপনারা নিরাপদে এগোতে পারেন। মনে রাখবেন, পাসপোর্ট শুধু ভ্রমণের জন্য নয়—এটি আপনার শিশুর আইডেন্টিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

যদি এই পোস্ট সাহায্য করে, শেয়ার করুন এবং আমাদের সাইট Passport Visa Blog -এ চোখ রাখুন আরও আপডেটের জন্য। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। আল্লাহ হাফেজ!

 

সম্পর্কিত পোস্ট:

মন্তব্য করুন

error: Content is protected !!