সৌদি ভিসা চেক অনলাইন বাংলাদেশ: সহজে ভিসা স্ট্যাটাস জানুন

সৌদি আরবের শ্রমবাজারে জনশক্তি রপ্তানি এবং পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর লাখো মানুষ গমন করেন। আগে পাসপোর্টে ম্যানুয়াল স্টিকার বা সিল মারা ভিসা প্রচলিত থাকলেও, বর্তমানে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MOFA) সম্পূর্ণ ডিজিটাল ই-ভিসা সিস্টেম চালু করেছে। এই ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে এখন আর কোনো এজেন্সির মুখের কথার ওপর নির্ভর করে থাকার প্রয়োজন নেই; বরং আপনার হাতের স্মার্টফোনটি ব্যবহার করেই সরাসরি সৌদি সরকারের সার্ভার থেকে ভিসার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। তবে, সার্ভারের ইন্টারফেস এবং ডাটা এন্ট্রি পদ্ধতিতে নিয়মিত পরিবর্তন আসার ফলে অনেকেই সঠিক মেনু খুঁজে পেতে হিমশিম খান।

রিক্রুটিং এজেন্সি আপনাকে যে ভিসার কাগজটি ধরিয়ে দিচ্ছে, সেটি কি আসলেই সৌদি অ্যাম্বাসি থেকে ইস্যু করা হয়েছে, নাকি ফটোশপে এডিট করা কোনো নকল কাগজ—তা যাচাই করা প্রবাসী জীবনের নিরাপত্তার প্রথম ধাপ। অনেক সময় দেখা যায়, পাসপোর্টের মেয়াদ বা নামের বানানে সামান্য ভুলের কারণে এয়ারপোর্ট থেকে ফেরত আসতে হয়, যা আগেভাগে চেক করলে সহজেই এড়ানো যেত। বিশেষ করে ‘এনজা’ (Enjaz) সিস্টেমটি এখন ‘MOFA Visa Platform’-এ স্থানান্তরিত হওয়ায় পুরনো লিংকগুলো আর কাজ করছে না, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্তিতে ফেলছে।

আধুনিক ই-ভিসা সিস্টেমে এখন আর কেবল পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে চেক করলেই হয় না, বরং সঠিক ‘ইনক্যোয়ারি টাইপ’ নির্বাচন করাটা জরুরি। আপনি যদি ভিজিট ভিসার জন্য আবেদন করে থাকেন, আর ওয়ার্ক ভিসার অপশনে গিয়ে খোঁজেন, তবে সিস্টেম ‘No Record Found’ দেখাবে। এছাড়া ভিসা স্ট্যাটাসের বিভিন্ন টার্ম যেমন—’Sent to Embassy’ এবং ‘Issued’-এর মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ রয়েছে, যা না বোঝার কারণে অনেকেই দালাল চক্রের দ্বারা প্রতারিত হন। আজকের এই টেকনিক্যাল গাইডে আমরা দেখব কীভাবে সৌদি সরকারি পোর্টালের লেটেস্ট ইউজার ইন্টারফেস ব্যবহার করে একদম নিখুঁতভাবে ভিসা যাচাই করবেন।

সৌদি ভিসা চেক অনলাইন বাংলাদেশ এর জন্য মোফা ওয়েবসাইটের ইনক্যোয়ারি পেজের স্ক্রিনশট

ভিসা চেকিং প্রক্রিয়ার গভীরে যাওয়ার আগে আপনাকে বুঝতে হবে সৌদি ইমিগ্রেশন সিস্টেমের ডাটাবেজ কীভাবে কাজ করে। যখন কোনো এজেন্সি আপনার পাসপোর্ট এবং ছবি নিয়ে ভিসার জন্য আবেদন করে, তখন প্রথম ধাপে একটি ‘বারকোড’ বা ‘ই-নাম্বার’ (E-Number) জেনারেট হয়। এই ই-নাম্বারটি দেখতে ভিসার মতো মনে হলেও এটি মূলত আবেদনের প্রাথমিক ধাপ মাত্র, চূড়ান্ত ভিসা নয়। অনেক অসাধু ব্যবসায়ী এই ই-নাম্বারের কাগজটিকেই আসল ভিসা বলে গ্রাহকের হাতে তুলে দিয়ে টাকা দাবি করেন। অনলাইনের সঠিক পোর্টালে চেক করলে আপনি সহজেই ধরতে পারবেন যে আপনার ফাইলটি আসলে কোন পর্যায়ে আছে—এটি কি কেবল সাবমিট করা হয়েছে, নাকি অ্যাম্বাসি থেকে অনুমোদন বা ‘অ্যাপ্রুভ’ পেয়েছে।

ভিডিও টিউটোরিয়াল

শুধুমাত্র আর্টিকেল পড়ে সৌদি ভিসা চেক অনলাইন বাংলাদেশ সম্পর্কে সব কিছু বোঝা কঠিন হতে পারে। তাই ভিডিওটি দেখুন।

সৌদি আরবের ভিসা যাচাই করার জন্য বর্তমানে তিনটি প্রধান প্ল্যাটফর্ম ব্যবহৃত হয়, তবে ভিসার ধরনভেদে প্ল্যাটফর্ম ভিন্ন হতে পারে। সাধারণ ওয়ার্ক ভিসা, ফ্যামিলি ভিজিট বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি ভিসার জন্য ‘MOFA’ (Ministry of Foreign Affairs) পোর্টালটিই মূল মাধ্যম। অন্যদিকে, যারা হাউজ মেইড বা ডোমেস্টিক ওয়ার্ক ভিসায় (আমেল মঞ্জিল) যাচ্ছেন, তাদের জন্য ‘মুসানেদ’ (Musaned) প্ল্যাটফর্মটি অধিকতর কার্যকর তথ্য দেয়। আর যাদের ইতিমধ্যে ইকামা (রেসিডেন্সি পারমিট) আছে এবং রি-এন্ট্রি বা ছুটি কাটিয়ে ফেরার ভিসার মেয়াদ চেক করতে চান, তাদের ব্যবহার করতে হবে ‘মুকিম’ (Muqeem) পোর্টাল। ভুল পোর্টালে সঠিক তথ্য দিলেও কোনো রেজাল্ট আসবে না।

আপনার পাসপোর্টের তথ্যের সাথে ভিসার তথ্যের হুবহু মিল থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। ডিজিটাল যুগে ইমিগ্রেশন অফিসাররা ম্যানুয়াল চেকিংয়ের চেয়ে সিস্টেমের তথ্যের ওপরই বেশি নির্ভর করেন। যদি আপনার পাসপোর্ট এর নামের বানান এবং ভিসার সার্ভারে থাকা নামের বানানে একটি অক্ষরেরও অমিল থাকে, তবে বোর্ডিং পাসের সময় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি আপনার জন্মতারিখের ফরম্যাট (DD/MM/YYYY) এবং সার্ভারের ফরম্যাটের সামঞ্জস্যতাও যাচাই করা প্রয়োজন। এই ছোটখাটো টেকনিক্যাল বিষয়গুলো চেক করা শিখলে আপনি নিজেই নিজের ট্রাভেল কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারবেন।

অনেকে মনে করেন যে কিউআর কোড (QR Code) স্ক্যান করে যদি কোনো তথ্য আসে, তবেই ভিসা আসল। এটি একটি ভুল ধারণা। বর্তমানে জালিয়াতি চক্র এমন ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে যা স্ক্যান করলে তাদেরই তৈরি করা নকল ডাটাবেজ প্রদর্শন করে। তাই থার্ড-পার্টি কোনো অ্যাপ বা স্ক্যানার ব্যবহার না করে, সরাসরি ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে অফিসিয়াল ডোমেইন নেম টাইপ করে ঢোকাই হলো নিরাপত্তার একমাত্র উপায়। নিচের সেকশনগুলোতে আমরা প্রতিটি পোর্টালের ইন্টারফেসের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা এবং ডাটা এন্ট্রির সঠিক নিয়ম নিয়ে আলোচনা করব।

সৌদি ভিসা চেক অনলাইন বাংলাদেশ: MOFA ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পদ্ধতি

অধিকাংশ বাংলাদেশি কর্মপ্রত্যাশী এবং ভিজিট ভিসাধারীদের জন্য সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (visa.mofa.gov.sa) হলো সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস। সাইটটি নিয়মিত আপডেট হওয়ার কারণে এর লেআউট মাঝে মাঝেই পরিবর্তন হয়। বর্তমানে এটি ‘KSAVisa’ প্ল্যাটফর্মের অধীনে ইন্টিগ্রেট করা হয়েছে। নিচে ধাপে ধাপে লেটেস্ট ইন্টারফেস অনুযায়ী চেকিং পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো।

ধাপ ১: পোর্টালে প্রবেশ এবং ভাষা নির্বাচন

প্রথমে আপনার কম্পিউটার বা মোবাইলের ব্রাউজার (Chrome বা Firefox রিকমেন্ডেড) থেকে ‘visa.mofa.gov.sa’ ঠিকানায় প্রবেশ করুন। সাইটটি আরবি ভাষায় লোড হতে পারে। পেজের উপরের বাম পাশে বা মাঝখানে ‘E’ আইকন অথবা ‘English’ লেখা বাটনে ক্লিক করে ভাষা পরিবর্তন করে নিন। এটি ইন্টারফেসের টেকনিক্যাল টার্মগুলো বুঝতে সাহায্য করবে।

ধাপ ২: ইনক্যোয়ারি (Inquiry) সেকশন খুঁজে বের করা

হোমপেজের একটু নিচের দিকে স্ক্রল করলে ‘Inquiry’ বা ‘Query’ নামক একটি সেকশন দেখতে পাবেন। এখানে দুটি ড্রপডাউন মেনু এবং ইনপুট বক্স থাকে। এটিই হলো ভিসা যাচাইয়ের মূল জায়গা। এখানে আপনাকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সিলেকশন করতে হবে।

  • Inquiry Type: এখানে ক্লিক করলে ‘Visa Application’, ‘Invitation Request’, এবং ‘Visa Document’ অপশনগুলো আসবে। যদি আপনার কাছে ভিসা নাম্বার থাকে তবে ‘Visa Document’ সিলেক্ট করবেন। আর যদি কেবল পাসপোর্ট দিয়ে আবেদনের অবস্থা দেখতে চান, তবে ‘Visa Application’ সিলেক্ট করুন।
  • Application Number / Visa Number: আপনার এজেন্সির দেওয়া স্লিপে বারকোডের নিচে যে বড় সংখ্যাটি থাকে, সেটি এখানে বসাতে হবে।
  • Passport Number: আপনার ই-পাসপোর্ট বা মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের নম্বরটি হুবহু টাইপ করুন। খেয়াল রাখবেন, পাসপোর্ট নাম্বারে কোনো স্পেস দেওয়া যাবে না।

ধাপ ৩: ক্যাপচা বা ইমেজ কোড ভেরিফিকেশন

তথ্য দেওয়ার পর নিচে একটি ৬ বা ৪ সংখ্যার ‘Captcha Code’ দেখাবে। অনেক সময় এই কোডটি অস্পষ্ট থাকে। যদি বুঝতে সমস্যা হয়, তবে পাশে থাকা রিফ্রেশ আইকনে (দুটি বাঁকানো তীর চিহ্ন) ক্লিক করে নতুন কোড জেনারেট করে নিন। কোডটি সঠিক ঘরে বসিয়ে ‘Search’ বা ‘Inquire’ বাটনে (সাধারণত সবুজ বা নীল রঙের হয়) ক্লিক করুন।

সৌদি ভিসা চেক করার সময় পাসপোর্ট নাম্বার ও ক্যাপচা কোড পূরণের সঠিক নিয়ম

ভিসা স্ট্যাটাসের অর্থ এবং টেকনিক্যাল বিশ্লেষণ

সার্চ বাটনে ক্লিক করার পর যে ফলাফল আসবে, তার টেকনিক্যাল অর্থ বোঝাটা সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। এখানে শুধু ‘Approved’ বা ‘Rejected’ লেখা থাকে না, বরং বিভিন্ন কোড বা টার্ম ব্যবহার করা হয়।

স্ট্যাটাস (Status) অর্থ (Meaning) আপনার করণীয় (Action)
Issued আপনার ভিসা চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত এবং পাসপোর্টে স্ট্যাম্পিং বা ডিজিটাল কপি তৈরি হয়েছে। এটি নিরাপদ। আপনি ফ্লাইট বুকিং এবং বিএমইটি (BMET) ক্লিয়ারেন্সের প্রস্তুতি নিতে পারেন।
Sent to Embassy আপনার আবেদনের ফাইল অনলাইনে সাবমিট করা হয়েছে, কিন্তু অ্যাম্বাসি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। অপেক্ষা করতে হবে। এই অবস্থায় এজেন্সিকে পুরো টাকা দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।
Under Process আবেদনটি সিস্টেমে ড্রাফট হিসেবে আছে বা প্রসেসিং চলছে। এটি ভিসা নিশ্চিত করে না। এই অবস্থায় কোনোভাবেই ফ্লাইট বা টিকিটের ব্যবস্থা করবেন না।
Rejected / Refused আপনার আবেদনটি সৌদি অ্যাম্বাসি বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাতিল করেছে। কারণ খুঁজে বের করতে হবে (মেডিকেল আনফিট বা আগের কোনো ব্যান থাকতে পারে)।
No Record Found প্রদত্ত তথ্যের সাথে ডাটাবেজের মিল নেই অথবা ভুয়া ভিসা নাম্বার। তথ্য আবার চেক করুন। যদি বারবার একই আসে, তবে আপনার এজেন্সি ভুয়া স্লিপ দিয়েছে।

মুসানেদ (Musaned) ও মুকিম (Muqeem) পোর্টাল: কখন কোনটি ব্যবহার করবেন?

সকল ভিসা MOFA পোর্টালে চেক করা যায় না। বিশেষ কিছু ক্যাটাগরির জন্য সৌদি সরকার আলাদা ডেডিকেটেড পোর্টাল তৈরি করেছে। এই টেকনিক্যাল পার্থক্য না জানলে আপনি সঠিক তথ্য পাবেন না।

মুসানেদ (Domestic Worker Visa)

যারা গৃহকর্মী, ড্রাইভার বা হাউজ বয় হিসেবে যাচ্ছেন, তাদের ভিসা প্রক্রিয়া মূলত ‘মুসানেদ’ সিস্টেমের মাধ্যমে হয়। মুসানেদ পোর্টালে (musaned.com.sa) গিয়ে পাসপোর্ট নাম্বার এবং জন্মতারিখ দিয়ে চেক করলে স্পন্সর বা কফিলের নামসহ বিস্তারিত দেখা যায়। এই পোর্টালে ‘Contract Status’ দেখাও খুব জরুরি, কারণ সেখানে আপনার বেতন এবং কাজের শর্তাবলী উল্লেখ থাকে।

মুকিম (Resident / Re-entry Visa)

যদি আপনি ছুটিতে বাংলাদেশে এসে থাকেন এবং আপনার ছুটির মেয়াদ বা রি-এন্ট্রি ভিসার ভ্যালিডিটি চেক করতে চান, তবে MOFA তে গিয়ে লাভ নেই। আপনাকে যেতে হবে ‘muqeem.sa’ পোর্টালে। সেখানে ‘Visa Validity’ অপশন সিলেক্ট করে ‘Iqama Number’ অথবা ‘Passport Number’ দিয়ে চেক করতে হয়। ক্রস চেকিং বা ক্রস-ম্যাচ অপশনে ‘Name’ ব্যবহার করা নিরাপদ।

পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে ভিসা চেক করার সময় সাধারণ ভুলসমূহ

অনলাইনে ভিসা যাচাই করার সময় ইউজাররা এমন কিছু টেকনিক্যাল ভুল করেন যার ফলে সিস্টেম এরর দেখায়। এই সমস্যাগুলো এড়াতে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন:

  1. নামের বানান ও ক্রম: পাসপোর্টে নাম যেভাবে লেখা আছে (First Name, Surname), ভিসার আবেদনেও ঠিক সেভাবেই থাকতে হবে। তবে সৌদি সিস্টেমে অনেক সময় নামগুলো আরবি থেকে ইংরেজিতে ট্রান্সলিটারেট করার সময় বানানে সামান্য পরিবর্তন হয় (যেমন: Mohammed এবং Muhammad)। এটি বড় কোনো সমস্যা নয়, যদি পাসপোর্ট নাম্বার ঠিক থাকে।
  2. জন্মতারিখের ফরম্যাট: MOFA ওয়েবসাইটে জন্মতারিখ ইনপুট দেওয়ার সময় ক্যালেন্ডার আইকন ব্যবহার করা শ্রেয়। ম্যানুয়ালি টাইপ করলে অনেক সময় দিন এবং মাসের ক্রম উল্টে যায় (আমেরিকান বনাম ব্রিটিশ ফরম্যাট)।
  3. ভিসা নাম্বার বনাম অ্যাপ্লিকেশন নাম্বার: এটি সবচেয়ে বড় ভুল। ‘Visa Number’ সাধারণত ১০ বা ১১ সংখ্যার হয় এবং এটি ইস্যু হওয়ার পরেই পাওয়া যায়। আর ‘Application Number’ হলো আবেদনের ট্র্যাকিং আইডি। ইনপুট ফিল্ডে সঠিক নাম্বারটি বসাচ্ছেন কি না তা নিশ্চিত করুন।

সৌদি ভিসা অ্যাপ্লিকেশন নাম্বার এবং আসল ভিসা নাম্বারের পার্থক্য বোঝার চিত্র

ভুয়া ওয়েবসাইট ও প্রতারণা সনাক্ত করার টেকনিক্যাল উপায়

বর্তমানে স্ক্যামাররা ‘Phishing’ বা ফিশিং সাইট তৈরি করে মানুষকে প্রতারিত করছে। এই সাইটগুলো দেখতে হুবহু MOFA বা মুকিম পোর্টালের মতো। অ্যাড্রেস বারের দিকে লক্ষ্য করলে দেখবেন ডোমেইন নেমটিতে সামান্য পরিবর্তন আছে, যেমন ‘mofa-visa-saudi.com’ বা ‘visa-gov.sa.net’। মনে রাখবেন, সৌদি সরকারের সকল অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের ডোমেইন এক্সটেনশন অবশ্যই .gov.sa অথবা .sa দিয়ে শেষ হবে।

তাছাড়া, আসল ভিসা পেজে সাধারণত একটি ডিজিটাল সিগনেচার বা ওয়াটারমার্ক থাকে যা জুম করলে ফাটে না। ভুয়া ভিসার পিডিএফ ফাইলে ফন্টের অসামঞ্জস্যতা দেখা যায়। আপনি যদি পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে কাতার ভিসা চেক করার সহজ উপায় জানেন, তবে দেখবেন উপসাগরীয় দেশগুলোর সরকারি পোর্টালগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রায় একই মানের। সৌদি ভিসার ক্ষেত্রেও, ব্রাউজারের বাম পাশে ‘Lock’ আইকন বা SSL সার্টিফিকেট আছে কি না তা দেখে নেওয়া জরুরি।</

ভিসা প্রিন্ট এবং পরবর্তী ধাপ

অনলাইনে স্ট্যাটাস ‘Issued’ দেখার পর পেজটি প্রিন্ট করে রাখা উচিত। ব্রাউজারের ‘Print’ অপশনে গিয়ে ‘Save as PDF’ সিলেক্ট করে ফাইলটি মোবাইলে সংরক্ষণ করুন। এই ডিজিটাল কপিটিই বর্তমানে এয়ারপোর্টে প্রদর্শন করতে হয়। পাসপোর্টে ম্যানুয়াল স্টিকার না থাকলেও এই ই-ভিসা পেপারটি দিয়েই ইমিগ্রেশন পার হওয়া যায়। তবে বিএমইটি কার্ড করার সময় এই অনলাইন কপিটির সত্যতা যাচাই করা হয়, তাই প্রিন্ট করার সময় যেন কিউআর কোড এবং বারকোড স্পষ্ট থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. মোবাইল দিয়ে কি সৌদি ভিসা চেক করা সম্ভব?
হ্যাঁ, যেকোনো স্মার্টফোনের ব্রাউজার (Chrome/Safari) দিয়ে ডেস্কটপ মোড অন করে সহজেই চেক করা যায়। আলাদা কোনো অ্যাপের প্রয়োজন নেই।

২. ভিসা ইস্যু হওয়ার কত দিন পর অনলাইনে দেখা যায়?
সাধারণত ভিসা ইস্যু হওয়ার সাথে সাথেই ডাটাবেজ আপডেট হয়ে যায়। তবে সার্ভার মেইনটেনেন্সের কারণে মাঝে মাঝে আপডেট হতে ৬ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

৩. পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ছাড়া কি ভিসা চেক করা যায়?
ভিসা চেকের সাথে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের সম্পর্ক নেই। তবে ভিসা ইস্যু হওয়ার জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। ভিসা অনলাইনে শো করছে মানে আপনার পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ইতিমধ্যে গৃহীত হয়েছে।

৪. ‘Send to Embassy’ স্ট্যাটাস কত দিন থাকে?
এটি নির্ভর করে অ্যাম্বাসির কাজের চাপের ওপর। সাধারণত ৩ থেকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে স্ট্যাটাস পরিবর্তন হয়। হজ বা ওমরাহ মৌসুম হলে সময় বেশি লাগতে পারে।

নিজে নিজের ভিসা চেক করার এই সক্ষমতা আপনাকে দালালদের হাত থেকে রক্ষা করবে এবং আপনার বিদেশ যাত্রা নিশ্চিত ও নিরাপদ করবে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার জানলে প্রবাস জীবনের শুরুটাই হবে আত্মবিশ্বাসের সাথে।

 

সম্পর্কিত পোস্ট:

মন্তব্য করুন

error: Content is protected !!